এক টুকরো পলিথিনে ঘেরা ঝুপড়ি ঘর, অনিশ্চিত জীবন আর অবহেলার দীর্ঘ অধ্যায়—এভাবেই দিন কাটছিল নীলফামারী সদর উপজেলার কুন্দুপুকুর ইউনিয়নের বাড়োঘড়িয়া গ্রামের ষাটোর্ধ্ব লুৎফর রহমানের জীবন। মাথা গোঁজার ঠাঁই থাকলেও ছিল না নিরাপত্তা, ছিল না ন্যূনতম মানবিক জীবনযাপনের পরিবেশ।
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় লুৎফর রহমানের অসহায় জীবন নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি নজরে আসে নীলফামারী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামানের। সংবাদ প্রকাশের পরই তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে বৃদ্ধের পাশে দাঁড়ান এবং তার জন্য গ্রহণ করেন একটি মানবিক পদক্ষেপ।
জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় প্রথমে লুৎফর রহমানকে গোসল করিয়ে পরিচ্ছন্ন করা হয়। পরে তাকে নতুন পোশাক পরিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবহার্য সামগ্রী প্রদান করা হয়। সব ধরনের প্রস্তুতি শেষে গত ১৭ জুন ২০২৬ তাকে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার নিরাপদ বৃদ্ধাশ্রমে পৌঁছে দেওয়া হয়, যেখানে তিনি এখন নিরাপদ ও সেবামূলক পরিবেশে জীবনযাপন করতে পারবেন।
এই উদ্যোগ শুধু একজন অসহায় বৃদ্ধের জীবনে নতুন আশার আলোই জ্বালায়নি, বরং সমাজে মানবিক প্রশাসনের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্তও স্থাপন করেছে। প্রশাসনের এমন সংবেদনশীল ও জনকল্যাণমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেছেন নীলফামারীর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। অনেকেই মনে করছেন, রাষ্ট্রের সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলো এভাবেই মানুষের পাশে দাঁড়ালে সমাজে অসহায় ও অবহেলিত মানুষের জীবন আরও নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ হবে।
একজন অসহায় মানুষের জীবনে পরিবর্তনের এই গল্প আমাদের মনে করিয়ে দেয়—সদিচ্ছা, সহমর্মিতা এবং দায়িত্ববোধ থাকলে প্রশাসন শুধু সেবাদানকারী নয়, মানবতারও অন্যতম আশ্রয়স্থল হয়ে উঠতে পারে।