নীলফামারী জলঢাকায় বাসাবাড়ির ব্যবহৃত টিউবওয়েলে চেতনা নাশক পদার্থ মিশিয়ে বাড়ির সবাইকে অচেতন করে রাতের আধাঁরে বাড়ি ডাকাতি করেছে একটি দুস্কৃতকারী চক্র। এ ডাকাতির ঘটনায় অজ্ঞাত আসামী করে জলঢাকা থানায় সাধারণ ডায়েরী অন্তর্ভুক্ত করেছে ভুক্তভোগী পরিবারটি।
ঘটনার চারদিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত এ ডাকাতির ঘটনার কোন ক্লু বের করতে পারেনি থানা পুলিশ। গত ১২ই জুন শুক্রবার দিবাগত রাতে শৌলমারী ইউনিয়নের শিংড়িয়া মেম্বারপাড়া গ্রামের নইমুদ্দিন (৬৫) এর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগী নইমুদ্দিন মিয়া অভিযোগ করে বলেন, দিনের বেলা ক্ষেত খামারের কাজকর্ম নিয়ে জমিতেই ব্যস্ত থাকতে হয়।
এ জন্য বাড়ি অনেকটা ফাঁকা থাকে। এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে দিনের যে কোন সময়ে আমাদের বাড়ির ব্যবহৃত খাওয়ার টিউবওয়েলে চেতনা নাশক প্রয়োগ করে রাখেন দুষ্কৃতকারীরা। সন্ধ্যার পর থেকে পরিবারের সদস্যরা বাসায় এসে যেই টিউবওয়েলের পানি পান করেছে সেই বিছানায় গিয়ে অচেতন হয়ে পরেছে। একে একে আমরা সবাই সন্ধ্যা ৭টার পর হইতে বিছানায় লুটিয়ে পরি। এ সময় দুষ্কৃতকারীরা আমাদের শয়ন ঘরে প্রবেশ করে বড় একটি ট্র্যাংক উঠিয়ে নিয়ে যায়।
যেখানে গত পরশুদিনের গরু বিক্রির ৩ লক্ষ টাকা ও সাড়ে ৩ লক্ষ টাকা মুল্যের স্বর্ণালঙ্কার, জমির দালিলিক প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, ব্যবহৃত কাপড় সংরক্ষিত ছিল। বাড়ির বড় ছেলে আব্দুল হালিম জানান, চোরেরা টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে বাকি সব রেখে আমাদের বাড়ির দুইশত মিটার দুরে ট্র্যাংকটি রেখে চলে যায়। সকালে উঠে ট্র্যাংকের ভাঙ্গা ঢাকনা দেখে আমরা ট্র্যাংকের সন্ধ্যান করলে বাড়ির অদুরে ট্র্যাংকটি পাই। কিন্তূ ট্র্যাংকের ভিতরে রাখা নগদ ৩ লক্ষ টাকা ও আড়াই ভরি স্বর্ণের জিনিস দুষ্কৃতকারীরা নিয়ে যায়।
বাড়ির মালিক নইমুদ্দিন মিয়া বলেন, যে অজ্ঞাত ব্যক্তি এ নেক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়ে সে ব্যক্তিকে আমরা সনাক্ত করতে পেরেছি। আগে অজ্ঞাত নামে জিডি করেছিলাম কিন্তূ এখন তথ্য প্রমান আছে। ওই দুষ্কৃতকারীকে আইনের মাধ্যমে সায়েস্তা করা হবে।
আশা রাখি থানা পুলিশ সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন। এ বিষয়ে থানা অফিসার ইনচার্জ ওসি নাজমুল আলম যুগের আলোকে জানান, এ চুরির ঘটনায় সন্দেহ ভাজন ব্যক্তিদের নজরদারীতে রাখা হয়েছে। আশা রাখি কিছু দিনের মধ্যে চোর সনাক্ত পূর্বক চোরকে ধরতে সক্ষম হবে থানা পুলিশ।