নীলফামারীর জলঢাকায় সরকারি কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীদের অংশগ্রহণে জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতার (জিবিভি) পরিস্থিতি বিশ্লেষণ ও পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
‘জেন্ডার সমতা অর্জন ও বৈষম্য নিরসনে নাগরিক সম্পৃক্ততা (ফেসিং)’ প্রকল্পের আওতায় বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) জলঢাকা উপজেলা কৃষি অফিসের সম্মেলন কক্ষে এই সভার আয়োজন করা হয়। সিভিক এনগেজমেন্ট ফান্ডের (সিইএফ) আওতায় এবং ডেমোক্রেসিওয়াচ এর সহযোগিতায় এ সভার আয়োজন করে জলঢাকা উপজেলা ‘নাগরিক প্ল্যাটফর্ম’।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপি। এতে সভাপতি তো করেন উপজেলা নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে প্রকল্পের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও মূল কার্যক্রম উপস্থাপন করেন ডেমোক্রেসিওয়াচ ফেসিং প্রকল্পের নীলফামারী জেলা প্রকল্প সমন্বয়কারী ও অনুষ্ঠানের সঞ্চালক মুজিবার রহমান।
তিনি তার উপস্থাপনায় বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, প্রভাব বিস্তার, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিকার চাওয়ার ক্ষেত্রে নাগরিক সমাজের বিশেষ করে যুব, নারী ও প্রান্তিক সম্প্রদায়ের সদস্যদের প্রতিনিধিত্ব, স্বীকৃতি ও অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে সমাজের সকল স্তরের নাগরিকদের কাছে পৌঁছানো এবং তাদের সংগঠিত করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন জলঢাকা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুল আলম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিজানুর রহমান ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা কামরুজ্জামান। মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অনির্বাণ বিদ্যাতীর্থ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকনুজ্জামান চৌধুরী, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা সাদেকুর রহমান, জলঢাকা প্রেসক্লাবের সভাপতি কামরুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান কবির লেলিন, প্রধান শিক্ষিকা রেহানা পারভিন, প্রধান শিক্ষিকা মল্লিকা রায়, শিক্ষক মর্তুজা ইসলাম, আসমানী ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শিরিন আক্তার আশা ও ব্র্যাক আইনি সহায়তা কর্মসূচির ম্যানেজার লুৎফর রহমান প্রমুখ।
বক্তারা সমাজে জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে সরকারি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি গণমাধ্যম তথা সাংবাদিকদের আরও জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। একই সাথে তারা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষায় নাগরিক সমাজের সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে ডেমোক্রেসিওয়াচ-এর জেলা সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার নাদিরা আক্তারসহ স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, এই প্রকল্পটিতে জিএফএ কনসাল্টিং গ্রুপ জার্মানির কারিগরি সহযোগিতা এবং কানাডিয়ান হাই কমিশন, সুইজারল্যান্ড দূতাবাস ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করছে।