আবেদ আলীঃ নীলফামারীর জলঢাকা পৌর শহরের পেট্রোল পাম্প ও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পরিবহন শ্রমিকদের দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ও সম্ভাব্য সংঘর্ষের আশঙ্কায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন। শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুর ২টা থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপি স্বাক্ষরিত এক আদেশে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকাল ৩টায় ওই এলাকায় ‘নীলফামারী জেলা বাস, মিনিবাস ও কোচ পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের ‘শ্রম কল্যাণ কমিটি জলঢাকা’র কার্যালয় উদ্বোধনের একটি কর্মসূচি নির্ধারিত ছিল। তবে এই কার্যালয় উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে পরিবহন শ্রমিকদের দুটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ ও চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় এলাকায় আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দেয়। বিষয়টি জলঢাকা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করলে প্রশাসন দ্রুত এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
১৪৪ ধারা বলবৎ থাকাকালে সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিচের বিষয়গুলো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আগ্নেয়াস্ত্রসহ যেকোনো ধরনের দেশীয় অস্ত্র বা লাঠি বহন ও প্রদর্শন, মাইকিং বা যেকোনো ধরনের শব্দযন্ত্রের ব্যবহার, পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির একত্রে চলাফেরা, সভা, সমাবেশ, মিছিলসহ যেকোনো ধরনের গণজমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট সবাইকে আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকাটিতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যাপক সতর্ক নজরদারি রাখা হয়েছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে বাসস্ট্যান্ড মটরস শ্রমিক (২২০) নেতাদের অভিযোগ, ১৪৪ ধারা জারি করার পরেও পেট্রোল পাম্পে কিভাবে প্যান্ডেল টাঙ্গিয়ে লোকসমাগমের অবস্থান থাকে? এ বিষয়ে তারা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
এলাকার পরিস্থিতি এখন পুরোপুরি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।