আল ইকরাম বিপ্লব, স্টাফ রিপোর্টার: নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় শ্রমিক সংগঠনকে কেন্দ্র করে জারি করা ১৪৪ ধারা শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হয়েছে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) পৌরসভার পেট্রোল পাম্প এলাকায় রেজি নং- রাজ- ৩৪৪৬-এর একটি শ্রমিক সংগঠন আত্মপ্রকাশ উপলক্ষে নিজস্ব কার্যালয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল বিএনপির বর্ষীয়ান নেতা আলহাজ্ব সৈয়দ আলী’র। সংগঠনটির সভাপতি রউফুল ইসলাম (বাবু)।
অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ধরে নীলফামারী বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি নং রাজ-২২০) বাসস্ট্যান্ডে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। নতুন একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দিলে পুরোনো সংগঠনের পক্ষ থেকে উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি আমলে নিয়ে শুক্রবার দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত বাস স্ট্যান্ড থেকে পেট্রোল পাম্প পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করে। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর অবস্থান এবং উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক তদারকির কারণে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। ফলে ১৪৪ ধারা শান্তিপূর্ণভাবেই পালিত হয়।
জলঢাকা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুল আলম জানান, ১৪৪ ধারা বলবৎ থাকার সময় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি এবং পরিস্থিতি সার্বিকভাবে শান্ত ছিল।
এ বিষয়ে নতুন সংগঠনের সভাপতি রউফুল ইসলাম (বাবু) গণমাধ্যমে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
তবে নীলফামারী বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি নং রাজ-২২০)-এর সভাপতি মমিনুর রহমান বলেন, “আমাদের সংগঠনটি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের আওতাভুক্ত। নতুন যে সংগঠনটি আত্মপ্রকাশ করেছে, সেটি কেবল ট্রেড ইউনিয়নভুক্ত একটি সংগঠন। তারা আমাদের বাসের নাম ব্যবহার করে কোনো ধরনের অর্থ আদায় করতে পারে না। একটি বৈধ সংগঠন থাকা অবস্থায় অন্য কোনো সংগঠন নিজেদের কর্তৃপক্ষ দাবি করতে পারে না। এটি অনাকাঙ্ক্ষিত। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”
এদিকে শ্রমিক সংগঠনকে কেন্দ্র করে ১৪৪ ধারা জারি হলেও উপজেলা প্রশাসনের সুষ্ঠু তদারকি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্ক অবস্থানের কারণে জনজীবনে তেমন কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি।