আবেদ আলী : নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার ধর্মপাল ইউনিয়নে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খেড়কাটি দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার মান উন্নয়ন ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে এক বর্ণাঢ্য অভিভাবক সমাবেশ ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।
সোমবার (৪ মে, ২০২৬) বিদ্যালয় হলরুমে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মশিউর রহমান। অনুষ্ঠানের শুরুতেই মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের মাঝে জনসচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়। পরবর্তীতে ৮ম, ৯ম ও ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের নিয়ে আয়োজিত বিশেষ সভায় কিশোর বয়সে নৈতিকতা বজায় রাখা এবং নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতির গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, ১৬ জন দক্ষ শিক্ষক এবং ৭ জন কর্মচারীর সমন্বয়ে প্রধান শিক্ষক জাহিনুর রহমান বিএসসি-র নিরলস প্রচেষ্টায় বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রমে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে ৯৮৫ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। সীমিত জায়গার মধ্যেও চমৎকার নিয়মশৃঙ্খলার মাধ্যমে প্রাত্যহিক অ্যাসেম্বলি এবং প্রায় শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করে বিদ্যালয়টি এলাকায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। উল্লেখ্য, প্রতিষ্ঠানটি ২০২৩ সালে ‘জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ’-এ শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবেও স্বীকৃতি পেয়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষা অফিসার মশিউর রহমান বলেন, এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার পরিবেশ এবং শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। শিক্ষকদের আন্তরিকতা ও অভিভাবকদের সচেতনতা থাকলে এই প্রতিষ্ঠানটি জেলার মডেলে পরিণত হবে।
প্রধান শিক্ষক জাহিনুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন এবং সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখতে আমাদের এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। আমরা চাই প্রতিটি শিক্ষার্থী যেন সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে।
আলোচনা সভা শেষে ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত ছিল, এমন ৪৮ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর হাতে বিশেষ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সহকারী প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান, সহকারী শিক্ষক বাবুল হোসেন ও আল আমিন। শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে পবিত্র কোরআন ও গীতা পাঠ করেন যথাক্রমে জীসা আক্তার ও মোহন অধিকারী। অভিভাবকদের উপস্থিতিতে এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমে নতুন গতির সঞ্চার হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সুধীজন।