• বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ০৩:৩৫ অপরাহ্ন |
  • English Version
Headline :
জলঢাকায় মীরগঞ্জ গরুহাট উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করলেন জেলা প্রশাসক নীলফামারীতে অফিস ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠিত নীলফামারীতে চুরির ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার প্রতিবাদে মানববন্ধন নীলফামারী পুলিশ লাইন্সে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত জলঢাকায় টিউবওয়েলে চেতনা নাশক মিশিয়ে অজ্ঞান হয়ে রাতের আধাঁরে বাড়িতে ডাকাতি যাদুরহাট বাজারে স্বর্ণ ও কাপড়ের দোকানে দুঃসাহসিক চুরি, ৩৪ লাখ টাকার মালামাল লুটের অভিযোগ কিশোরগঞ্জে বিএনপি নেতা হত্যা‌ মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন নীলফামারীতে আর্থিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত নীলফামারীতে স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট ও ইনোভেশন প্রদর্শনীর সমাপনী পিয়েল হত্যার প্রতিবাদে জলঢাকায় শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন, দ্রুত গ্রেফতার ও বিচার দাবি

নিখোঁজের দুই দিন পর ঘরের মেঝের নিচে মিলল বৃদ্ধা মায়ের মরদেহ, হত্যার অভিযোগ ছেলের বিরুদ্ধে

নাসির উদ্দিন শাহ মিলন: বার্তা সম্পাদক / ৪৬ Time View
Update : বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ০৩:৩৫ অপরাহ্ন

যে ঘরে জীবনের শেষ আশ্রয় খুঁজেছিলেন এক অসহায় বৃদ্ধা মা, সেই ঘরের মেঝের নিচেই দুই দিন পর মিলল তার নিথর দেহ। নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (৩ জুন) মধ্যরাতে উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের উত্তর বড়ভিটা ময়দানপাড়া এলাকায় ঘরের মেঝে খুঁড়ে মারুফা বেগম (৬০) নামে এক বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি ওই এলাকার মৃত আশরাফ আলীর স্ত্রী এবং তিন সন্তানের জননী।
স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মারুফা বেগম তার বড় ছেলে জুয়েল মিয়ার সঙ্গে বাড়িতে বসবাস করতেন। ছোট ছেলে লাভিন মিয়া চাকরির কারণে ঢাকায় থাকতেন। গত সোমবার হঠাৎ করেই নিখোঁজ হয়ে যান মারুফা বেগম। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।
নিখোঁজের দুই দিন পর রহস্যজনক ঘটনার সূত্রপাত হয়। বুধবার লাভিন মিয়ার স্ত্রী ঘর গোছানোর সময় বিছানার তোশকের নিচে রক্তের দাগ এবং ঘরের মেঝেতে অস্বাভাবিক ফাটল দেখতে পান। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে লাভিন মিয়াকে জানানো হলে তিনি থানায় খবর দেন।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘরের ভেতরে রক্তের চিহ্ন ও মেঝের ফাটল দেখে সন্দেহ প্রকাশ করে। পরে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় মেঝে খুঁড়ে উদ্ধার করা হয় মারুফা বেগমের মরদেহ। এ দৃশ্য দেখে স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে নেমে আসে শোকের ছায়া।
নিহতের ছোট ছেলে লাভিন মিয়া অভিযোগ করে বলেন, “আমি ঢাকা থেকে এসে জানতে পারি, আমার মায়ের সঙ্গে বড় ভাইয়ের স্ত্রীর ঝগড়া হয়েছিল। এরপর ভাবি রাগ করে বাবার বাড়িতে চলে যান। ওই দিন থেকেই মা নিখোঁজ ছিলেন। পরে ঘরের ভেতর রক্ত ও মেঝেতে ফাটল দেখে পুলিশকে জানাই। আমার মা নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই বড় ভাই জুয়েল আত্মগোপনে রয়েছে। আমার দৃঢ় ধারণা, সে-ই আমার মাকে হত্যা করে ঘরের মেঝেতে পুঁতে রেখেছে।”
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান বলেন, “নিহতের ছোট ছেলে থানায় এসে বিষয়টি জানালে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। ঘরের ভেতরে রক্তের চিহ্ন ও মেঝেতে ফাটল দেখতে পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় মেঝে খুঁড়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।”
তিনি আরও বলেন, “মারুফা বেগম দুই দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন। ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে হত্যার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হবে।”
একজন মায়ের এমন মর্মান্তিক পরিণতি পুরো এলাকাকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। যে সন্তানকে বুকে আগলে মানুষ করেছেন, সেই সন্তানের বিরুদ্ধেই উঠেছে হত্যার অভিযোগ—এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে গভীর ক্ষোভ ও বেদনার সৃষ্টি হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category