
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জের বড়ভিটা আফজালুল উলুম ফাজিল মাদ্রাসায় ২৩ শিক্ষক-কর্মচারীর নিয়োগে জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে ১৮ জন ইতোমধ্যে এমপিওভুক্ত হয়েছেন। আর আগের নিয়োগ দেখিয়ে আরও পাঁচজনকে এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির নকল কাটিং তৈরি, নিয়োগ কমিটির সদস্যদের স্বাক্ষর জাল এবং প্রকৃত নিয়োগের সময়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ তারিখ দেখিয়ে কয়েকজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পরে এসব কাগজপত্রের ভিত্তিতে এমপিওভুক্তির জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ফাইল পাঠানো হয়।
স্থানীয় মোখলেছুর রহমান বলেন, মাদ্রাসাটিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তাঁর দাবি, নিয়োগের কাগজপত্রে অসঙ্গতি ও জালিয়াতির বিষয়টি স্থানীয়ভাবে জানাজানি হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে প্রকৃত যোগ্য প্রার্থীরা বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অলিয়ার রহমান বলেন, তাঁর ছেলের চাকরির জন্য মাদ্রাসার অধ্যক্ষকে ১১ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছিল। তাঁর ভাষ্য, চাকরি হবে আশায় তাঁর ছেলে চার-পাঁচ বছর মাদ্রাসায় কাজ করলেও কোনো বেতন দেওয়া হয়নি। পরে চাকরি হবে না জানিয়ে তাঁকে বের করে দেওয়া হয়। এ সময় দেওয়া টাকার কিছু অংশ ফেরত দেওয়া হলেও পুরো টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
অভিযোগ রয়েছে, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. অহিদুল ইসলাম ব্যাকডেটে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির ভুয়া পেপার কাটিং তৈরি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষর জাল এবং নিবন্ধনহীন ব্যক্তিদের ২০০৫ সালের আগে ও জাল নিবন্ধনধারীদের ২০১৬ সালের আগে নিয়োগ দেখিয়েছেন। অভিযোগকারীদের দাবি, কর্মচারী পদে আট থেকে নয় লাখ টাকা এবং শিক্ষক পদে ১৪ থেকে ১৫ লাখ টাকা নেওয়ার পর এমপিওভুক্তির জন্য ফাইল পাঠানো হয়েছে। স্থানীয়দের চাকরি দেওয়ার কথা বলেও বিপুল অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে।
চাকরিপ্রত্যাশী আরেক ব্যক্তি বলেন, ‘চাকরির জন্য আমিও ১০ লাখ টাকা দিয়েছি। পরে আমাকে চাকরি দেওয়া হয়নি। টাকাও এখনো ফেরত পাইনি। এলাকার আরও অনেকের কাছ থেকে অধ্যক্ষ টাকা নিয়েছেন। টাকা ফেরত দেওয়ার চাপের কারণে তিনি মাদ্রাসায় আসেন না।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, টাকা ফেরত না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ চাকরিপ্রত্যাশীদের চাপের মুখে দীর্ঘদিন ধরে অধ্যক্ষ মাদ্রাসায় অনুপস্থিত রয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে মাদ্রাসায় গিয়ে অধ্যক্ষ মো. অহিদুল ইসলামকে পাওয়া যায়নি। তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কিশোরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফ-উজ-জামান সরকার বলেন, ‘মাদ্রাসাটির বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, সেগুলোর সত্যতা পাওয়ার কথা জানা গেছে। তবে এটি ফাজিল মাদ্রাসা হওয়ায় এ বিষয়ে সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার আমার নেই।’
জানা গেছে, জাল নিয়োগ ও ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে এমপিওভুক্তির অভিযোগে মাদ্রাসাটিতে একাধিকবার তদন্ত হয়েছে। শিক্ষা বোর্ডের তদন্তেও অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা জানা গেছে। তবে তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে নিয়োগ ও এমপিওভুক্তির সুযোগ তৈরি করে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।
নাসির উদ্দিন শাহ মিলন: বার্তা সম্পাদক 


















