রংপুর ০১:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
News Title :
বিএমএসএসের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান তোতার ইন্তেকাল নীলফামারীতে জেন্ডার সমতা ও বৈষম্য নিরসনে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের মতবিনিময় সভা অস্থিতিশীলতার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে নীলফামারীতে স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিবাদ মিমের নতুন ঘর আর করা হল না, মায়ের আর্তনাদ কামারপুকুরের ৭ নং ওয়ার্ডের জনপ্রিয় ব্যক্তি আশরাফুল আলম আলোচনায় শীর্ষে সম্পাদকীয় – ডেঙ্গু বাড়ছে, দেশের প্রায় সকল অঞ্চলেই বিস্তার জলঢাকায় লাশের  গাড়ি নিয়ে সড়ক অবরোধ জলঢাকায় লাশ বহনকারী গাড়ি নিয়ে রাস্তা অবরোধ করে খুনিদের বিচারের দাবীতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন উন্নয়নের অঙ্গীকার নিয়ে মাঠে রাজু হোসেন পাটগ্রাম সীমান্তে পথভ্রষ্ট কিশোরীকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর

মিমের নতুন ঘর আর করা হল না, মায়ের আর্তনাদ

 

 

মোসাদ্দেকুর রহমান সাজু, স্টাফ রিপোর্টার, ডোমার নীলফামারীঃ “গত পরশু মোর ছাওয়ালটা ঢাকাত গেইল। কয়েক দিন আগে যাবার চাইছিল। মুই কনু এলা গরম ও রোদ চলেছে, এলা যাবার লাগিবে না। রোদ, গরম কমিলে বাবা তোমরা যান। সেই তানে রোদ কমিল তারপর এলা গেইল। মোর ছাওয়াটা কোইল মা এবার টাকা আনি ঘরটা নতুন করি ঠিক কোরিম তার এই স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে গেল এ ভাবেই আত্ন-চিৎকারে কেঁদেই চলছে
গতকাল ঢাকার বারিধারা এলাকায় কার চাপায় মৃত মেহেদী হাসান মিমের (২৪) মা মিনু বেগম (৫৬)।

তার এই অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

গতকাল মঙ্গলবার বিকালে ঢাকার বারিধারা এলাকায় K- ব্লোকের ১নং রোডের ১৩ নং বাসার সামনে আছরের নামাজ পড়ে ফুটপাতে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন ডোমারের বাক প্রতিবন্ধী ছেলে মেহেদী হাসান মিম। এ সময় বিপরীত দিক হতে আসা একটি কালো রঙের কার তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই মারা যায় মেহেদী হাসান মিম।
দূর্ঘটনায় মৃত্যু মেহেদী হাসান মিম নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় ৯নং সোনারায় ইউনিয়নের হাজীপাড়া গ্রামের এরশাদুল হকের পুত্র তিনি।

 

এবিষয়ে মিমের মামাতো ভাই সাজ্জাদ চৌধুরী জয় কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, মেহেদী হাসান মিম একজন বাক প্রতিবন্ধী। সে কানেও শোনে না,কথাও বলতে পারে না। সে ডোমার সরকারি কলেজের বিএ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।

দিনমজুর বাবার বয়স হওয়ায় সে পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যাক্তি। গত সোমবার রাতে অন্য শ্রমিকদের সাথে সে ঢাকায় রওনা দেয়। এবং মঙ্গলবার ভোরে পৌঁছে। সেখানে বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসার পাশাপাশি সে রাজমিস্ত্রীর কাজ করত।

আজ বুধবার সকাল সাড়ে এগারো টায় তার লাশ ডোমারে নিজ বাড়িতে পৌঁছে। দুপুর তিনটায় তার জানাজা শেষে দাফন করা হবে । মিমেরা দুই ভাই এক বোন। বড় ভাই মুক্তাদির বিয়ে করে আলাদা সংসার করছে। বোনের ও বিয়ে হয়ে গেছে। তাই বাবা-মাকে সঙ্গে নিয়ে মিমের সংসার। প্রতি মাসে সে তার বাবা-মা কে ১২-১৫ হাজার টাকা দিত। তাদের কোন আবাদী জমি নেই। শুধু বাড়ী ভিটাটা রয়েছে। সে সুন্দর করে কাগজের ফুলসহ বিভিন্ন শৈল্পিক কাজ করত। আর্ট করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষ ছিল মিম।

 

Popular Post

বিএমএসএসের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান তোতার ইন্তেকাল

মিমের নতুন ঘর আর করা হল না, মায়ের আর্তনাদ

Update Time : ০৬:২১:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

 

মোসাদ্দেকুর রহমান সাজু, স্টাফ রিপোর্টার, ডোমার নীলফামারীঃ “গত পরশু মোর ছাওয়ালটা ঢাকাত গেইল। কয়েক দিন আগে যাবার চাইছিল। মুই কনু এলা গরম ও রোদ চলেছে, এলা যাবার লাগিবে না। রোদ, গরম কমিলে বাবা তোমরা যান। সেই তানে রোদ কমিল তারপর এলা গেইল। মোর ছাওয়াটা কোইল মা এবার টাকা আনি ঘরটা নতুন করি ঠিক কোরিম তার এই স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে গেল এ ভাবেই আত্ন-চিৎকারে কেঁদেই চলছে
গতকাল ঢাকার বারিধারা এলাকায় কার চাপায় মৃত মেহেদী হাসান মিমের (২৪) মা মিনু বেগম (৫৬)।

তার এই অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

গতকাল মঙ্গলবার বিকালে ঢাকার বারিধারা এলাকায় K- ব্লোকের ১নং রোডের ১৩ নং বাসার সামনে আছরের নামাজ পড়ে ফুটপাতে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন ডোমারের বাক প্রতিবন্ধী ছেলে মেহেদী হাসান মিম। এ সময় বিপরীত দিক হতে আসা একটি কালো রঙের কার তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই মারা যায় মেহেদী হাসান মিম।
দূর্ঘটনায় মৃত্যু মেহেদী হাসান মিম নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় ৯নং সোনারায় ইউনিয়নের হাজীপাড়া গ্রামের এরশাদুল হকের পুত্র তিনি।

 

এবিষয়ে মিমের মামাতো ভাই সাজ্জাদ চৌধুরী জয় কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, মেহেদী হাসান মিম একজন বাক প্রতিবন্ধী। সে কানেও শোনে না,কথাও বলতে পারে না। সে ডোমার সরকারি কলেজের বিএ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।

দিনমজুর বাবার বয়স হওয়ায় সে পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যাক্তি। গত সোমবার রাতে অন্য শ্রমিকদের সাথে সে ঢাকায় রওনা দেয়। এবং মঙ্গলবার ভোরে পৌঁছে। সেখানে বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসার পাশাপাশি সে রাজমিস্ত্রীর কাজ করত।

আজ বুধবার সকাল সাড়ে এগারো টায় তার লাশ ডোমারে নিজ বাড়িতে পৌঁছে। দুপুর তিনটায় তার জানাজা শেষে দাফন করা হবে । মিমেরা দুই ভাই এক বোন। বড় ভাই মুক্তাদির বিয়ে করে আলাদা সংসার করছে। বোনের ও বিয়ে হয়ে গেছে। তাই বাবা-মাকে সঙ্গে নিয়ে মিমের সংসার। প্রতি মাসে সে তার বাবা-মা কে ১২-১৫ হাজার টাকা দিত। তাদের কোন আবাদী জমি নেই। শুধু বাড়ী ভিটাটা রয়েছে। সে সুন্দর করে কাগজের ফুলসহ বিভিন্ন শৈল্পিক কাজ করত। আর্ট করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষ ছিল মিম।