
মোসাদ্দেকুর রহমান সাজু, স্টাফ রিপোর্টার, ডোমার নীলফামারীঃ “গত পরশু মোর ছাওয়ালটা ঢাকাত গেইল। কয়েক দিন আগে যাবার চাইছিল। মুই কনু এলা গরম ও রোদ চলেছে, এলা যাবার লাগিবে না। রোদ, গরম কমিলে বাবা তোমরা যান। সেই তানে রোদ কমিল তারপর এলা গেইল। মোর ছাওয়াটা কোইল মা এবার টাকা আনি ঘরটা নতুন করি ঠিক কোরিম তার এই স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে গেল এ ভাবেই আত্ন-চিৎকারে কেঁদেই চলছে
গতকাল ঢাকার বারিধারা এলাকায় কার চাপায় মৃত মেহেদী হাসান মিমের (২৪) মা মিনু বেগম (৫৬)।
তার এই অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
গতকাল মঙ্গলবার বিকালে ঢাকার বারিধারা এলাকায় K- ব্লোকের ১নং রোডের ১৩ নং বাসার সামনে আছরের নামাজ পড়ে ফুটপাতে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন ডোমারের বাক প্রতিবন্ধী ছেলে মেহেদী হাসান মিম। এ সময় বিপরীত দিক হতে আসা একটি কালো রঙের কার তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই মারা যায় মেহেদী হাসান মিম।
দূর্ঘটনায় মৃত্যু মেহেদী হাসান মিম নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় ৯নং সোনারায় ইউনিয়নের হাজীপাড়া গ্রামের এরশাদুল হকের পুত্র তিনি।
এবিষয়ে মিমের মামাতো ভাই সাজ্জাদ চৌধুরী জয় কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, মেহেদী হাসান মিম একজন বাক প্রতিবন্ধী। সে কানেও শোনে না,কথাও বলতে পারে না। সে ডোমার সরকারি কলেজের বিএ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।
দিনমজুর বাবার বয়স হওয়ায় সে পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যাক্তি। গত সোমবার রাতে অন্য শ্রমিকদের সাথে সে ঢাকায় রওনা দেয়। এবং মঙ্গলবার ভোরে পৌঁছে। সেখানে বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসার পাশাপাশি সে রাজমিস্ত্রীর কাজ করত।

আজ বুধবার সকাল সাড়ে এগারো টায় তার লাশ ডোমারে নিজ বাড়িতে পৌঁছে। দুপুর তিনটায় তার জানাজা শেষে দাফন করা হবে । মিমেরা দুই ভাই এক বোন। বড় ভাই মুক্তাদির বিয়ে করে আলাদা সংসার করছে। বোনের ও বিয়ে হয়ে গেছে। তাই বাবা-মাকে সঙ্গে নিয়ে মিমের সংসার। প্রতি মাসে সে তার বাবা-মা কে ১২-১৫ হাজার টাকা দিত। তাদের কোন আবাদী জমি নেই। শুধু বাড়ী ভিটাটা রয়েছে। সে সুন্দর করে কাগজের ফুলসহ বিভিন্ন শৈল্পিক কাজ করত। আর্ট করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষ ছিল মিম।
মোসাদ্দেকুর রহমান সাজু,স্টাফ রিপোর্টার, ডোমার নীলফামারী 


















