
মোসাদ্দেকুর রহমান সাজু, স্টাফ রিপোর্টার, ডোমার নীলফামারীঃ নীলফামারীর ডোমার উপজেলার ১নং ভোগডাবুড়ী ইউনিয়নের গোসাইগঞ্জে ১১ মাসের অসুস্থ সন্তানকে বাঁচাতে মায়ের আহাজারি।
সমাজের বৃত্তবানদের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন ছকিনা বেগম। বর্তমানে ৩ সন্তান নিয়ে শব্দিগঞ্জ ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন সরকারি জায়গায় বসবাস করেন তিনি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় স্বামী মাছুম বিল্লাহ দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন রোগে ভুগছেন। অধিকাংশ সময় বাড়ির বাইরে থাকায় স্ত্রীসন্তানদের দেখাশোনা ও পরিবারের খোঁজখবর রাখতে পারেন না। পরিবারে কর্মক্ষম ব্যক্তি না থাকায় পরিবারটি অর্থাভাবে অনাহারে দিনাতিপাত করছেন। তিন সন্তানের পরিবার ছকিনার, বড় মেয়ে মারুফা (১২) মেজো মেয়ে মুনতাহা (০৫) এবং ১১মাসের অসুস্থ সন্তান মারুফকে নিয়ে ছকিনা চরম কষ্টে দিনাতিপাত করছেন। কখনো একবেলা খাবারও জোটেনা আবার কখনো না খেয়েই দিনের পর দিন পার করতে হয় বলে ছকিনা জানায়। তাই তিনি সমাজের সহৃদয়বান, ধনবান এবং বৃত্তশালী ব্যক্তিদের কাছে তার এই অসহায় শিশুদের বাঁচাতে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন।
এবিষয়ে ছকিনার সাথে কথা হলে কথা হলে তিনি জানান, ১১ মাসের ছেলে মারুফ জন্মের সময় মাথায় আঘাত পাওয়ার কারণে শারীরিক সমস্যায় ভুগছে। শিশুটির মাথা সবসময় পেছনের দিকে ঝুলে থাকে। জন্মের পর রংপুরে প্রায় এক মাস চিকিৎসা করানো হলেও দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ যোগান দিতে না পারায় তার চিকিৎসা প্রদান করা সম্ভব হয়নি।
ছকিনা বেগম আরোও জানান, বাবার বাড়ির সামান্য সহযোগিতা নিয়ে কোনরকম সন্তানদের মুখে একবেলা খাবার তুলে দিতে পারছি, কখনো কখনো আবার না খেয়েই দিন পার করতে হয়।
স্বামী পাশে না থাকায় সন্তানদের চিকিৎসা ও সংসারের খরচ চালানো তার পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই আমি দেশবাসি সকলের কাছে আমার শিশুটির চিকিৎসার জন্য আপনাদের সহযোগিতা কামন করছি। আমাকে সহযোগিতা পাঠানোর জন্য আমি আমার পারসোনাল বিকাশ নম্বর দিলাম। (01701574356) সাহায্য পাঠানোর আগে অবশ্যই এই নম্বরে ফোন দিয়ে নিশ্চিত হবেন।
এবিষয়ে ছকিনার ভাই জানান, তার বোনের স্বামী দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছেন এবং অধিকাংশ সময় বাড়িতে থাকেন না। ফলে বোন ও তার সন্তানদের দেখাশোনার দায়িত্ব আমাদেরকেই বহন করতে হচ্ছে। কিন্তু বর্তমানে আমাদেরও সংসারে নানা ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হওয়ায় তাদের পরিবারকে নিয়মিত সহযোগিতা করা সম্ভব হচ্ছে না।
এলাকাবাসীসহ আশেপাশের প্রতিবেশীরা জানান, ছকিনা বর্তমানে তার তিন সন্তানদেরকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তারা আশা ব্যক্ত করে বলেন, সরকার যদি অসহায় শিশুটির চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাহলে শিশুটি স্বাভাবিক জীবনে ঘুরে দাড়াতে পারবে। এর পাশাপাশি সমাজের সহৃদয়বান ধনবান এবং বৃত্তবান ব্যক্তিদেরকে অসহায় ছকিনার পরিবারকে সাহায্যে এবং সহযোগিতা করার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন।
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শায়লা সাঈদ তম্বীর সাথে কথা হলে তিনি জানান, আপনাদের মাধ্যমে আমি বিষয়টি জানতে পারলাম যে ভোগডাবুরী ইউনিয়নের গোসাইগঞ্জ এলাকায় ছকিনা খাতুন নামে এক অসহায় নারী রয়েছে। তার এক অসুস্থ সন্তানসহ দুই কন্যা সন্তানকে নিয়ে তিনি মানবেতর জীবনযাপন করছেন। আমি চেষ্টা করব আমাদের উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধ্যমত এবং যতটুকু করা যায় আমি সেটা করার চেষ্টা করব।
মোসাদ্দেকুর রহমান সাজু,স্টাফ রিপোর্টার, ডোমার নীলফামারী 















