
নীলফামারীর জলঢাকায় পুকুরের পানিতে পড়ে ৬ বছর বয়সী শিশু খাতিজা আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় রহস্য উদ্ঘাটন ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে তার পরিবার।
রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে জলঢাকা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নিহত শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে এ দাবি জানানো হয়। এ সময় শিশুটির মৃত্যুকে নিছক দুর্ঘটনা হিসেবে না দেখে ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান স্বজনেরা।
সংবাদ সম্মেলনে নিহত খাতিজা আক্তারের চাচা আব্দুর রশিদ অভিযোগ করেন, তার ভাতিজিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে পুকুরের পানিতে ফেলে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। পূর্বশত্রুতার জেরে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি। তবে এ অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপন করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
আব্দুর রশিদ বলেন, শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য এখনো তাদের কাছে স্পষ্ট নয়। তাই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন, জড়িতদের শনাক্ত এবং দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ৩০ সেপ্টেম্বর জলঢাকা উপজেলার ডাউয়াবাড়ি ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের নালারপাড় গ্রামে নানা এনামুল হকের (৫৫) বাড়ির পাশের একটি পুকুরে পড়ে মারা যায় শিশু খাতিজা আক্তার। পরে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নীলফামারী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহত খাতিজা আক্তার ওই গ্রামের আজাহারুল ইসলাম ও রেজিনা আক্তার দম্পতির একমাত্র সন্তান। একমাত্র মেয়েকে হারিয়ে পরিবারটি শোকাহত। তবে শিশুটির মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যার অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের সদস্যরা বলেন, তারা কোনো নিরপরাধ ব্যক্তিকে হয়রানি করতে চান না। বরং প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে চান। এ জন্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরপেক্ষ তদন্ত কামনা করেন তারা।
এদিকে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। পরিবারের উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।
ছানোয়ার হোসেন বাদশা 














