• বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ০৫:৪৮ অপরাহ্ন |
  • English Version
Headline :
বিশ্ব রেড ক্রস রেড ক্রিসেন্ট দিবস উপলক্ষে নীলফামারীতে মানববন্ধন ও আলোচনা সভা লালমনিরহাটে সাপের কামড়ে শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু, এলাকায় শোকের ছায়া জলঢাকায় ভুট্টা শুকানোকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রী জখম ॥ থানায় অভিযোগ লালমনিরহাটে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান: ক্লিনিকে জরিমানা ও লাইসেন্স বাতিলের নির্দেশ জলঢাকার খেড়কাটি দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে অভিভাবক সমাবেশ ও শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত জলঢাকায় বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস পালিত : সাংবাদিকদের সম্মিলিত র‍্যালী ও সমাবেশ লালমনিরহাটে কিস্তির টাকা আদায়ে গরু নিয়ে গেলেন এসডিএফের মাঠকর্মীরা জলঢাকায় আলোচিত সেই হিন্দু তান্ত্রিক কবিরাজ আটক জলঢাকায় যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান মে দিবস পালিত: বর্ণাঢ্য র‍্যালী ও সমাবেশ জলঢাকায় শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের র‍্যালী ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত

লালমনিরহাটে সাপের কামড়ে শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু, এলাকায় শোকের ছায়া

রুহুল আমিন রাসেল, স্টাফ রির্পোটার / ১২ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ০৫:৪৮ অপরাহ্ন

মোঃ রুহুল আমিন রাসেল : লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় সাপের কামড়ে স্নেহা (৬) নামে এক নিষ্পাপ শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৬ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার জগৎবেড় ইউনিয়নের ককোয়াবাড়ী এলাকায় এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুরো এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া, আর স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।

নিহত স্নেহা ওই এলাকার বাসিন্দা শামীম ইসলামের আদরের মেয়ে। পরিবারের একমাত্র বা অত্যন্ত স্নেহের সন্তান হওয়ায় তার মৃত্যুতে পরিবারটি ভেঙে পড়েছে। প্রতিবেশীদের ভাষ্য, স্নেহা ছিল চঞ্চল ও প্রাণবন্ত একটি শিশু, যার হাসিতে সবসময় মুখর থাকত আশপাশের পরিবেশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেলে বাড়ির পাশে সমবয়সী অন্যান্য শিশুদের সঙ্গে খেলাধুলায় মেতে উঠেছিল স্নেহা। গ্রামের খোলা পরিবেশে শিশুদের খেলাধুলা করা ছিল নিত্যদিনের দৃশ্য। কিন্তু হঠাৎই সেই আনন্দঘন মুহূর্তে নেমে আসে ভয়াবহ বিপর্যয়। খেলাধুলার একপর্যায়ে একটি বিষধর সাপ স্নেহাকে কামড় দেয়।

সাপের কামড়ে শিশুটি সঙ্গে সঙ্গে চিৎকার করে কান্নাকাটি শুরু করে। তার কান্না শুনে পরিবারের সদস্যরা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন। এসময় শিশুটির শরীরে বিষক্রিয়ার লক্ষণ দেখা দিতে শুরু করে, যা ধীরে ধীরে গুরুতর আকার ধারণ করে।

ঘটনার পরপরই পরিবারের লোকজন দ্রুত তাকে স্থানীয় এক কবিরাজের কাছে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিকভাবে ঝাড়ফুঁকসহ প্রচলিত পদ্ধতিতে চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে সময় যত গড়াতে থাকে, শিশুটির শারীরিক অবস্থার ততই অবনতি হতে থাকে।

পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক হয়ে উঠলে পরিবারের সদস্যরা তড়িঘড়ি করে তাকে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের ধারণা, বিষক্রিয়া দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় শিশুটিকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

এ ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। স্বজনদের কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশের পরিবেশ। প্রতিবেশীরা জানান, এমন একটি মর্মান্তিক মৃত্যু তারা আগে দেখেননি। সবার মুখে একই প্রশ্ন—সময়মতো সঠিক চিকিৎসা পেলে কি শিশুটিকে বাঁচানো যেত?

স্থানীয় সচেতন মহল ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাপের কামড়ের ক্ষেত্রে দেরি না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে অ্যান্টিভেনম চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি। গ্রামাঞ্চলে এখনও কবিরাজের ওপর নির্ভরশীলতা অনেক বেশি থাকায় এমন অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু ঘটছে বলে তারা মনে করেন।

তারা আরও বলেন, সাপের কামড়ের পর আক্রান্ত ব্যক্তিকে শান্ত রাখা, অপ্রয়োজনীয় নড়াচড়া কমানো এবং দ্রুত চিকিৎসা কেন্দ্রে পৌঁছানো অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে সাপের উপদ্রব বেশি হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করার দাবি জানান তারা।

এ মর্মান্তিক ঘটনাটি আবারও স্মরণ করিয়ে দিল—সচেতনতার অভাব এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসা না নেওয়ার কারণে কত সহজেই একটি তাজা প্রাণ ঝরে যেতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category