নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় গ্রামীণ ব্যাংকের এক শাখা ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে প্রায় ২৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ, জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৯ মে) সকালে জলঢাকা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মোছা. মর্জিনা খাতুন। তিনি জানান, তার স্বামী মো. আমজাদ হোসেন গ্রামীণ ব্যাংকের নীলফামারী সদর এলাকার রামগঞ্জ বাজার শাখায় সিনিয়র অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ওই সময় শাখা ব্যবস্থাপক মো. হামিদুল হকের সঙ্গে তাদের পারিবারিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
অভিযোগে বলা হয়, সেই সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে হামিদুল হক বিভিন্ন সময়ে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ও অফিসের অডিটজনিত ক্যাশ ঘাটতির কথা বলে তাদের কাছ থেকে একাধিক কিস্তিতে টাকা নেন। জমি কেনা, বাড়ি নির্মাণ এবং অফিসের হিসাব সমন্বয়ের অজুহাতে তিনি মোট ২৩ লাখ ৩১ হাজার ১৮ টাকা গ্রহণ করেন বলে দাবি করা হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, অডিটের সময় ক্যাশ ঘাটতি আড়াল করতে হামিদুল হক সহকর্মীদের কাছ থেকেও টাকা ধার নিতেন এবং ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে হিসাব সমন্বয় করতেন। ব্যাংকের ব্যালেন্স সার্টিফিকেটেও অসঙ্গতির অভিযোগ তোলা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, শুধু এই পরিবার নয়, স্থানীয় আরও কয়েকজন ব্যক্তি, যার মধ্যে শিক্ষক রঞ্জিত কুমার রায় ও হামিদুল ইসলাম নামে একজন চিকিৎসক রয়েছেন, তারাও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
পাওনা টাকা ফেরত চাইলে শাখা ব্যবস্থাপক প্রভাব খাটিয়ে আমজাদ হোসেনকে মানসিকভাবে অসুস্থ হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেন এবং শাস্তিমূলক বদলি ও বাধ্যতামূলক অবসরের ষড়যন্ত্র করেন বলে অভিযোগ ওঠে। বর্তমানে আমজাদ হোসেনকে পাঠগ্রাম জোনাল অফিসে ওএসডি করে রাখা হয়েছে।
মর্জিনা খাতুন বলেন, জীবনের সঞ্চিত অর্থ হারিয়ে তাদের পরিবার এখন চরম সংকটে রয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দিয়েও তারা সঠিক প্রতিকার পাননি বলেও দাবি করেন তিনি।
ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্ত, অর্থ উদ্ধারের ব্যবস্থা এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে শরাফত আলী সরু, জরিনা বেগম, ছমেদা বেগম, সাহিদা বেগম ও শাহরিয়ার নাফিজ উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত মো. হামিদুল হকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।